রামায়ণ সম্পর্কে প্রাথমিক আলোচনা | Preliminary discussions about the Ramayana

রামায়ণ সম্পর্কে প্রাথমিক আলোচনা । রামায়ণ সম্পর্কে বিভিন্ন উক্তি । রামায়ণ রচনার পূর্ব কথা । রামায়ণের বিভিন্ন নাম । Preliminary discussions about the Ramayana

রামায়ণ সম্পর্কে বিভিন্ন উক্তি

ভারতবর্ষের পুরাণ বলছে-

নাস্তি রামায়ণাৎ পরম্।

গঙ্গার মতাে তীর নেই, মায়ের মতাে গুরু নেই,

আর রামায়ণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছ নেই।

রামায়ণ যেন ভারতবাসীর হৃদয়।

রামায়ণ সম্পর্কে কবি ভবভূতির উক্তি

“মঙ্গল্যা | মনােহরা চ জগতে মাতেব গঙ্গোব চ।”

আদিকবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণ ভারতবর্যের আদি মহাকাব্য এবং ভারতীয়দের পরম শ্রদ্ধার বস্তু।

রামায়ণ সম্পর্কে ভবভূতির উক্তি যথার্থ-

“ভগবতা বাল্মীকেঃ সরস্বতীনিস্যন্দঃ” |

অর্থাৎ ভগবান বাল্মীকির শব্দচৈতন্যের প্রকাশমূর্তি এই রামায়ণ।

রামায়ণ যথার্থই রামকথার অমৃতপ্রবাহে ভারতীয় জীবনকে যুগ যুগ ধরে অভিষিক্ত করে সঞ্জীবিত করে রেখেছে ; সেই সঙ্গে সরস ও পবিত্রও করেছে।

রামায়ণ ব্যক্তিবিশেষের রচনা হলেও এর অন্তরালে অনেক অজানা কবি আত্মগােপন করে আছেন।

রামকথার কাহিনি ভ্রাম্যমান গায়ক ও কথকশ্রেণির মুখে মুখে একসময়ে ভারতবর্ষে গীত হত এবং তার ফলে রামায়ণের পরিচিতি ব্যাপকভাবে দেশের সর্বত্র বিস্তৃত হয়েছিল।

অধ্যাত্মরামায়ণে বাল্মীকি নিজের অতীত জীবনের ইতিহাস নিজেই বলেছেন।

রামায়ণ রচনার পূর্ব কথা (রামায়ণ সম্পর্কে প্রাথমিক আলোচনা )

তমসা নদীতীর। সশিষ্য বাল্মীকি এসেছেন স্নানের জন্য। সহসা সেইসময় ক্রৌঞ্চমিথুনের একটি আর্তনাদ করে ওঠে। ঋষি সামনে দেখতে পান এক ব্যাধের শরাঘাতে ক্রৌঞ্চ মরে পড়ে আছে আর ক্রৌঞ্চী করুণ বিলাপ করছে। ঋষিহৃদয় শোকে বিগলিত হয় এবং ব্যাধের উদ্দেশ্যে নির্গলিত হয় অভিশাপবাণী

ক্রৌমিথুনের একটি ব্যাধের শরাঘাতে নিহত হলে ক্রৌঞ্চ বিরহে বেদনার্ত ক্রৌঞ্জীর মর্মদ করুণ ক্রন্দনে বাল্মীকির চিত্তে যে করুণাঘন ভাবের উদয় হল, তার ফলশ্রুতিতে পৃথিবীর প্রথম ছন্দোবদ্ধ শ্লোকটি বাল্মীকির কণ্ঠ থেকে নির্গত হল :

মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতী সমাঃ ।

যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনাদেকমবধীঃ কামমােহিতম।

একথা বলার পর ঋষি সম্বিৎ ফিরে পেলেন ; ভাবলেন এ তিনি কী বললেন? শিষ্যকে ডেকে বললেন –

“পাদবদ্ধোঅক্ষরসমস্তন্ত্রীলয়সমন্বিতঃ।

শোকার্তস্য প্রবৃত্তো মে শ্লোকো ভবতু নান্যথা।।”

শােক থেকে উদ্ভূত বলে এর নাম হয় শ্লোক। পরে সেখানে উপস্থিত হলেন প্রজাপতি ব্রহ্মা।

বাল্মীকি তারই আদেশে এবং নারদের উপদেশে নারদোক্ত ‘রামকথা অবলম্বন করে অনুষ্টুপ ছন্দে ৭ কাণ্ড, ৫০০ অধ্যায় ও ২৪ হাজার শ্লোকে করুণরসাশ্রিত রামায়ণ রচনা করেন এবং তার অনেকগুলি নামকরণ করেন রামায়ণ, সীতাচরিত, পৌলস্ত্যবধ

রামায়ণের বিভিন্ন নাম

রামায়ণকে কেউ কেউ রামায়ণ সংহিতা বা চতুর্বিংশসাহশী সংহিতা নামেও অভিহিত করে থাকেন।

চতুর্বিংশসাহত্রী সংহিতা’ বলার কারণ সম্ভবত রামায়ণের শ্লোকসংখ্যা চব্বিশ হাজার।

মহাকবি কালিদাস ‘রঘুবংশ মহাকাব্যে রামায়ণকে কবি-প্রথম-পদ্ধতি বলে উল্লেখ করেছেন।

মহাভারতের শান্তিপর্বে ভার্গবগীত নামে রামােপাখ্যান বিবৃত আছে।

অনেকগুলি নাম থাকলেও রামায়ণ’ নামটিই প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ।

রামায়ণ কথাটির অর্থ রাম-চরিত।

রামায়ণের বিভিন্ন নাম –রামায়ণ সংহিতা বা চতুর্বিংশসাহশী সংহিতা ,রাম-চরিত

Preliminary discussions about the Ramayana

আরো পড়ুন

  1. বৈদিক সাহিত্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ আলোচনা

2. সংহিতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ আলোচনা

3. রামায়ণ MCQ Test

4. রামায়ণ শর্ট প্রশ্ন এবং উত্তর

5. রামায়ণ ও মহাভারত-এর পোর্বাপর্য বিচার কর। Judgment of Ramayana and Mahabharata

2 thoughts on “রামায়ণ সম্পর্কে প্রাথমিক আলোচনা | Preliminary discussions about the Ramayana”

  1. এখানে Teachmint Apps এর সাহায্যে আধুনিক পদ্ধতিতে Online এ সংস্কৃত ব্যাকরণের শব্দরূপ, ধাতুরূপ, সন্ধি, অনুবাদ, কারক, সমাস, প্রত্যয়, অশুদ্ধি সংশোধন, এককথায় প্রকাশ ইত্যাদি Topic এর উপর পৃথক্ পৃথক্ Course করানো হয়। এবং PDF FILE পাওয়া যায়।
    আমাদের Telegram Group
    https://t.me/joinchat/SK-3xQOYL45lMzM1

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: