বৈদিক সাহিত্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ আলোচনা

বৈদিক সাহিত্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ আলোচনা – বেদ সম্পর্কিত উক্তিবিশেষ বেদের কাল বিষয়বস্তু ,বেদের প্রকার , অথর্ববেদ ত্রয়ী অন্তর্ভূক্ত নয় , পাঠপ্রণালী , বৈদিক স্বর, বৈদিক ছন্দ , চার বেদের কতিপয় বিষয় আলোচিত হয়েছে। বৈদিক সাহিত্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ আলোচনা – বেদ সম্পর্কিত উক্তিবিশেষ বেদের কাল বিষয়বস্তু ,বেদের প্রকার , অথর্ববেদ ত্রয়ী অন্তর্ভূক্ত নয় , পাঠপ্রণালী , বৈদিক স্বর, বৈদিক ছন্দ , চার বেদের কতিপয় বিষয় আলোচিত হয়েছে।

Table of Contents


বৈদিক সাহিত্যের ইতিহাস

সংস্কৃত সাহিত্য অথবা ভারতীয় সাহিত্য আলোচনা করতে গেলে সর্বপ্রথমে আলোচনা করতে হয় ‘বৈদিক সাহিত্যের ইতিহাস ।

রামায়ণ’ রচনার পূর্ববর্তী কাল পর্যন্ত ‘বেদ’ সম্বন্ধিত সকলপ্রকার সাহিত্যকে বৈদিক সাহিত্য বলা হয়।

যে সুদূর অতীতে পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চল যখন অজ্ঞতার অন্ধকারে প্রায় সম্পূর্ণ নিমগ্ন ছিল, তখন ভারতবর্ষে উদিত হয়েছিল জ্ঞানালোকধর্মী বেদ সূর্য। বেদকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা—বৈদিক সভ্যতা।

বৈদিক সভ্যতা প্রকৃতপক্ষে আর্য ভারতের উজ্জ্বলতম পরিণতি। কোনও দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি সৃষ্টিতে সাহিত্যের অবদান তুচ্ছ নয়। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রেও এ নিয়মের ব্যতিক্রম হয় নি। প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা গঠনে এবং সভ্যতার বিকাশে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল সাহিত্যই।

ঋগবেদ থেকে শুরু করে বেদাগ সৃষ্টির অন্তিমলগ্ন পর্যন্ত যে সুবিশাল বৈদিক সাহিত্য গড়ে উঠেছিল, তা কেবলমাত্র ভারতীয় মনীষার গর্বের সামগ্রীই নয়, সমগ্র পৃথিবীর এক অনন্য অতুলনীয় সম্পদ। পৃথিবীর অন্যান্য প্রাচীন সাহিত্যের মধ্যে বৈদিক সাহিত্যের স্থান সর্বোচ্চে। বৈদিক সাহিত্যকে উন্নততম প্রাচীন সাহিত্য বলে দাবী করা বোধহয় খুব বেশী অসমীচীন নয়।

তা হলে দেখা গেল বৈদিক সাহিত্য তথা বৈদিক সভ্যতা মূলতঃ বেদকেন্দ্রিক। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, বেদ কী?বেদ হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে বেশী প্রামাণ্য ধর্ম গ্রন্থ—এটুকু মাত্র বললে বেদের যথার্থ পরিচয় উদ্ঘাটিত হয় না।

বেদ শব্দের উত্পত্তি ও অর্থ

বস্তুতঃ জ্ঞানার্থক বিদ্ থেকে বেদশব্দটি নিষ্পন্ন। বিদ্যতে অনেন ইতি অর্থাৎ এ থেকে জানা যায়—এই অর্থে বিদ্-ধাতুর সঙ্গে করণবাচ্যে যজ্ঞ প্রত্যয় যোগ করে ‘বেদ’ শব্দের সৃষ্টি। সেই জন্যে বেদ শব্দের অর্থ ‘জ্ঞান’। কিন্তু ‘বেদ’ কথাটি শব্দাত্মক গ্রন্থবিশেষে প্রসিদ্ধ। শব্দ তো জ্ঞানের সাধন, স্বয়ং জ্ঞান নয়।

বিদ্ ধাতু থেকে বেদ শব্দ নিষ্পন্ন—এ কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্ ধাতু কিন্তু সকর্মক। এর অর্থ জানা বা লাভ করা। সুতরাং বেদ বলতে সেই শব্দরাশিকেই বুঝায় যার মাধ্যমে (পরব্রহ্মস্বরূপ পরমানন্দ বা পরম সুখ উপলব্ধি করা যায়।

‘বেদ শব্দ বিদ্ ধাতুর সঙ্গে “অচ্ / ঘঞ্’ প্রত্যয় যোগে নিম্পন্ন। এর আক্ষরিক অর্থ জ্ঞান। বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান। সেই অতিন্দ্রীয় পরম জ্ঞান যে শাস্ত্র থেকে লাভ করা যায়, তাই বেদ।

বেদকে ব্রহ্ম, ত্রয়ী, শ্রুতি, স্বাধ্যায়, ছন্দ প্রভৃতি শব্দেও অভিহিত করা হয়। বেদের বেদত্ব, স্বকীয়ত্ব বা বৈশিষ্ট্য হ’ল এই যে প্রত্যক্ষ বা প্রত্যক্ষমূলক অনুমানাদির দ্বারা যে বিষয় বা উপায় জানা যায় না, পণ্ডিতেরা বেদের মাধ্যমেই সে সব জানেন। তাই বলা হয়েছে :

প্রত্যক্ষেণানুমিত্যা বা যস্তূপায়ো ন বিদ্যতে।

তেন বিদত্তি বেদেন তস্মাদ বেদস্য বেদতা ৷৷

বেদ যে কেবলমাত্র প্রত্যক্ষাদি প্রমাণের অগোচর অজ্ঞাত বিষয়েরই জ্ঞাপক-এ কথা মনে করলে কিন্তু ভুল করা হবে। কেন না বেদেই তো বিধৃত হয়ে আছে আর্য ভারতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র, আর্য সভ্যতা ও সংস্কৃতির এক সম্পূর্ণ বিবরণ। সমগ্র পৃথিবী যখন প্রায় অন্ধকার, আদিম যুগের কোনও এক শুভ মুহূর্তে আর্যদের সাধনায় ভারতবর্ষেই উদিত হয়েছিল জ্ঞানসূর্য যার আলোকচ্ছটায় প্রকাশিত হয়েছিল এক নূতন সভ্যতা। বেদপুরুষই সেই সভ্যতার কারিগর। তাই তো সে সভ্যতার নাম ‘বৈদিক সভ্যতা’।

বৈদিক সাহিত্য – বেদ সম্পর্কিত উক্তিবিশেষ

উক্তিঅবস্থান / বক্তা
বেদোঅখিলধর্মূলমমনুসংহিতা ; মনু
ইষ্টপ্রাপ্ত্‍যনিষ্টপরিহারয়োরলৌকিকমুপায়ং যো গ্রন্থবেদয়তি স বেদঃঐতরেয় ব্রাহ্মণভাষ্য ; সায়ণ
প্রত্যক্ষেণানুমিত্যা বা যস্তূপায়ো ন বিদ্যতে।
এনং বিদন্তি বেদেন তস্মাদ্ বেদস্য বেদতা।।

যাজ্ঞবল্ক্য
বেদো ধর্মমুলম,গৌতম
মন্ত্রব্রাহ্মণয়োর্বেদনামধয়েম্আপস্তম্ব
মন্ত্রব্রাহ্মণাত্মকশব্দরাশির্বেদঃঋগ্বেদ ভাষ্যভূমিকা ; সায়ণ
ন কশ্চিৎ বেদকর্তাস্তিপরাশরসংহিতা ; পরাশর
সামর্গ্যজুর্বেদাস্ত্রয়স্ত্রয়ী।অর্থশাস্ত্র ; কৌটিল্য
গীতিষু সামাখ্যাপূর্ব মীমাংসা ; জৈমিনি
শেষে যজুঃ শব্দঃপূর্ব মীমাংসা ; জৈমিনি
বেদ সম্পর্কিত উক্তিবিশেষ

বেদ অপৌরুষেয় অর্থাৎ বেদের কোনো রচয়িতা নেই। আসলে সেই সময় আমাদের মতো কলম ধরে কেউ একজন বেদ লেখেন নি ; তাই এরকম উক্তি।

অনেক ঋষি স্বতপস্যা, স্বজ্ঞান প্রভৃতির মাধ্যমে এই অতীন্দ্রিয় জ্ঞানের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং তা গুরু-শিষ্যপরম্পরায় রক্ষিত হয়েছিল। সুতরাং ঋষিগণ দৃষ্ট জ্ঞানমূলক মন্ত্রসমষ্টিই ‘বেদ।

ঋষিগণ মন্ত্রের দ্রষ্টা’, স্রষ্টা নন।

বেদের সাধারণ পরিচয়

বেদ মন্ত্রব্রাহ্মণাত্মক। মন্ত্র এবং ব্রাহ্মণ ভাগ নিয়েই বেদ। আপস্তম্বও বলেছেন : মন্ত্রব্রাহ্মণয়োর্বেদনামধেয়ম্।

মন্ত্র আবার দু’ধরনের (১) স্তুতিমূলক এবং (২) প্রার্থনামূলক।

প্রার্থনামূলক মন্ত্রকে শৌনক ‘আশীঃ’ নামে অভিহিত করেছেন। যে সব মন্ত্রে শুধু বিভিন্ন দেবতার স্তব করা হয়েছে সে সব মন্ত্রই ‘স্তুতি’, আর যে সব মন্ত্রে স্বর্গ, পুত্র, ধন, আয়ুঃ, পশু প্রভৃতির প্রার্থনা রয়েছে সে সব প্রার্থনামূলক মন্ত্রই ‘আশীঃ’। এ ধরনের মন্ত্রবিভাগ কিন্তু অবান্তর এবং অপ্রয়োজনীয়। স্তুতিমূলক মন্ত্রে যে দেবতার স্তুতি করা হয়েছে, সেই দেবতার কাছে কিছু না কিছু প্রার্থনাও বিদ্যমান। আর স্তুতি না করে একেবারেই কিছু প্রার্থনা করা কি সম্ভব? প্রার্থনামূলক মন্ত্রসমূহে স্বর্গের চেয়ে পুত্রধনাদির প্রার্থনার আধিক্যই বেশী লক্ষ্য করা যায়।মন্ত্র সবই পদ্যে রচিত।

বেদের রচয়িতা

বেদ কারও রচনা নয়। অমানুষ, মানুষ বা অতিমানুষ তো দূরের কথা, কোনও দেবতাও বেদ সৃষ্টি করেন নি। এমন কি সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মাও বেদকর্তা নন, তিনি বেদমর্তা মাত্র। বেদ নিত্য শাশ্বত। ভাগ্যবান ঋষিদের কাছেই বেদ উদ্ভাসিত বা প্রকাশিত হয়েছিল। যে ঋষিরা বেদমন্ত্র দর্শন করতে সমর্থ হয়েছিলেন, তাঁরাই হলেন মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি।

বেদের অপর নাম শ্রুতি কেন ?

মহামুনি যাস্কের ভাষায় এ সব ঋষিই হলেন “সাক্ষাৎকৃতধর্মা।” অর্থাৎ এ সব ঋষিই ধর্ম বা বেদের সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন, দর্শন পেয়েছিলেন, এঁরা কিন্তু দৃষ্ট মন্ত্ৰসমূহকে কুক্ষিগত করে রাখেন নি, রাখেন নি নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে। দৃষ্ট মন্ত্রসমূহকে তাঁরা দান করেছিলেন উপযুক্ত পাত্রে—উপযুক্ত শিষ্যে যারা মেধাবী, শুচি, সুন্দর। এই শিষ্যদের অসাক্ষাৎ কৃতধর্মা নামে অভিহিত করা হয়। এঁরাও ঋষি। এঁদের ঋষিত্ব মন্ত্রদর্শন জন্য নয়, মন্ত্রশ্রবণ জন্য। সাক্ষাৎ কৃতধর্মা মন্ত্রদ্রষ্টু ঋষিদের উপদেশ শ্রবণের মাধ্যমেই এঁদের ঋষিত্ব। সে জন্যই এঁরা শ্ৰুতর্ষি। যেহেতু শ্রবণ মাধ্যমেই গুরুশিষ্য পরম্পরাক্রমে বেদ মানবচিত্তে বিধৃত হতে থাকল অনাদি কাল থেকে, তাই বেদের অপর নাম ‘শ্রুতি’।

অথর্ববেদকে কি ত্রয়ীর অন্তর্গত কিনা ? অথর্বসংহিতার গঠন ও বিষয়বস্তু পড়ুন

বেদের বিভাজন কেন করা হয় ?

বৈদিক ভারতে যজ্ঞের ছিল এক বিরাট ভূমিকা। যজ্ঞানুষ্ঠান ক্রমে ক্রমে জটিল হতে থাকে। এই সময়েই ঋষিদের দর্শনলব্ধ বেদমন্ত্র, যা ছিল একান্তই অবিভক্ত, তা বিভক্ত হতে শুরু হয়। প্রয়োজনের তাগিদেই অবশ্য বেদবিভাজন ঘটে।

বেদের বিভাজন কে কেন করেন ?

মনে হয় যজ্ঞানুষ্ঠানের পুরোহিতদের কর্ম ও দায়িত্বের বিষয় অনুসারেই মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস বেদবিভাগ করেন।

বেদের কাল


বেদের কাল নির্ণয়ে আজও বিভিন্ন মতান্তর বিদ্যমান।

তবে একটা কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হয় যে, কোন একটা নির্দিষ্ট সময়ে বেদ রচিত হয়নি ; কালক্রমে বহুদিন ধরে বেদের মন্ত্রগুলি পুষ্টতা লাভ করেছে।

বৈদিক সাহিত্য মতান্তরে বেদের কাল

মত
সময়কাল
ভিত্তি
ম্যাক্সমূলার
১২০০- ১০০০ খ্রী.পূ.
ভাষা ও সাহিত্য
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
১০০০ – ৯০০ খ্রী.পু,
ভাষা ও সাহিত্য
বালগঙ্গাধর তিলক
৪৫০০ খ্রী.পূ. (৪-৬ হাজার)
জ্যোতিষ
জ্যাকোবি
৪৫০০ খ্রী.পূ.

জ্যোতিষ
কামেশ্বর আইয়ার
৪৫০০ খ্রী.পূ.
জ্যোতিষ
ম্যাকডোনেল ১৩০০/ ১৫০০ খ্রী.পূ
ইতিহাস
বেদের কাল / বৈদিক সাহিত্য


বেদের বিভাগ অনুযায়ী বেদ মূলতঃ দুই ভাগে বিভক্ত – মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ।

আবার সূক্ষ্মভাবে বিচার করলে মন্ত্র, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ্ – এই চারটি ভাগ পাই।

অন্যদিকে বেদ মূল চারপ্রকার – ঋক, সাম, যজুঃ ও অথর্ব।

এগুলির পাঠক্রম শাখাভেদে বিবিধ। এদের মধ্যে ঋক্-সাম- যজুঃ ত্রয়ীর অন্তর্গত।

কেউ আবার অথর্ববেদকেই ত্রয়ী লক্ষণাক্রান্ত বলেছেন।

বেদভূমিকা- বৈদিক সাহিত্য

বিষয়- বেদবৈদিক সাহিত্য

বৈদিক সাহিত্যবিষয়বস্তু –


জ্ঞানার্থক বিদ’ ধাতুর উত্তর অচ প্রত্যয় যোগে বেদ শব্দ, নিম্পন্ন। “বেদ’ কথাটির অর্থ জ্ঞান। সেই অতীন্দ্রিয় পরমজ্ঞান যে শাস্ত্র থেকে লাভ করা যায় তাকেই বলা হয় বেদ।

বেদের প্রকার :


বেদ চার প্রকার :- (১) ঋক, (২) সাম , (৩) যজুঃ এবং (৪) অথর্ববেদ।

ত্রয়ী :-


বৈদিক মন্ত্রের তিনটিরূপ – পদ্যাত্মক মন্ত্র ঋক, গীতিময় মন্ত্র সাম এবং গদ্যাত্মক মন্ত্র যজুঃ। এই তিন শ্রেণির মন্ত্রই বেদের অন্তর্গত বলে বেদের আর এক নাম ত্রয়ী।

অথর্ববেদ ত্রয়ী অন্তর্ভূক্ত :-


বৈদিক মন্ত্রের তিনটিরূপ -পদ্যাত্মক মন্ত্র ঋক, গীতিময় মন্ত্র সাম এবং গদ্যাত্মক মন্ত্র যজুঃ। এই তিন শ্রেণির মন্ত্রই বেদের অন্তর্গত বলে বেদের আর এক নাম ত্রয়ী।

অথর্বন মন্ত্রের আলাদা কোন লক্ষণ নেই। এই শ্রেণির মন্ত্র গদ্যপদ্যগীত্যাত্মক মন্ত্রেরই লক্ষণাক্রান্ত। তাই অথর্ববেদকে ত্রয়ীর অন্তর্ভূক্ত না করার কোনো কারণ নেই।

অথর্ববেদকে কি ত্রয়ীর অন্তর্গত কিনা ? অথর্বসংহিতার গঠন ও বিষয়বস্তু পড়ুন

অথর্ববেদ ত্রয়ী অন্তর্ভূক্ত নয় :-

ত্রয়ী বলতে ঋক , সাম ও যজুঃ – এই বেদত্রয়কে বোঝায়। পরবর্তীকালের সংযোজন বলে অথর্ববেদ ত্রয়ী থেকে ভিন্ন। আবার অনেকের মতে, ঋক, সাম ও যজুঃ যজ্ঞের সঙ্গে ত্রয়ী অন্তর্ভুক্ত সম্পর্কিত বলে এদের ত্রয়ী বলা হয়। যজ্ঞে অথর্ববেদের কোনো ভূমিকা নেই, তাই অথর্ববেদ ত্রয়ীর অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

বৈদিক মন্ত্র পাঠপ্রণালী


(১) প্রকৃতি (সংহিতা, পদ, ক্রম) ও (২) বিকৃতি (জটা, মালা, শিখা, লেখা, ধ্বজ, দণ্ড, রথ, ঘন)।

ঋক মন্ত্র –


ছন্দোবদ্ধ পদ্যাত্মক মন্ত্রকে বলা হয় ঋক।

সাম মন্ত্র


সাম শব্দের অর্থ গান। সুর সংযোগে ঋকমন্ত্র গীত হলেই তাকে সামমন্ত্র বলে। সায়ণাচার্যের মতে – “গীতিরূপা মন্ত্রাঃ সামানি।”

যজুঃ মন্ত্র


ছন্দোবদ্ধ ঋক এবং গীতিময় সাম মন্ত্র ছাড়া অবশিষ্ট বৈদিক মন্ত্রকে বলা হয় যজুঃ। জৈমিনি বলেছেন – “শেষে যজুঃ শব্দঃ।

বেদের চার ঋত্বিক :-


ঋগ্বেদের ঋত্বিকের নাম হোতা, সামবেদের ঋত্বিকের নাম উদগাতা, যজুর্বেদের ঋত্বিকের নাম অধ্বরযু এবং অথর্ববেদের ঋত্বিকের নাম ব্রহ্মা।

বৈদিক স্বর


উদাত্ত(উচ্চৈরুদাত্তঃ), অনুদাত্ত(নীচৈরনুদাত্তঃ), স্বরিতঃ(সমাহার স্বরিতঃ)।

বৈদিক ছন্দ


সাত প্রকার – গায়ত্রী(২৪), উষ্ণিক(২৮), অনুষ্টুপ(৩২), বৃহতী(৩৭), পংক্তি(৪০), ত্রিষ্টুপ(৪৪) ও জগতী (৪৮)।

মন্ত্রের অঙ্গ


মন্ত্রের অঙ্গ তিন প্রকার – ১) ঋষি( যার কাছে মন্ত্রটি প্রকাশিত হয়), ২) ছন্দ(প্রকাশকারে দৃষ্টমন্ত্র যে ধরনের পদ‍্যকে আশ্রয় করে) এবং ৩) দেবতা (যাকে লক্ষ‍্য করে মন্ত্র উচ্চারিত হয়।)

চারবেদের কতিপয় বিষয়

বিষয়ঋগ্বেদসামবেদযজুর্বেদ:-
অথর্ববেদ:-
সংহিতাঋকসংহিতাসামসংহিতা১. কৃষ্ণযজুর্বেদ বা
তৈত্তিরীয় সংহিতা
২. শুক্লযজুর্বেদ বা
বাজসনেয়ী সংহিতা

অথর্বসংহিতা


বর্তমানে প্রাপ্ত শাখা
দুটি শাখা-

শাকল শাখা
(১০১৭ টি সূক্ত)
এবং

বাস্কল শাখা

(১০২৮ টি সূক্ত)
তিনটি শাখা-
রাণায়ণীয়
(১৮১০ টি সাম),

কৌথুমী এবং
জৈমিনীয়
কৃষ্ণযজুর্বেদ-
চারটি শাখা-
কাঠক, কপিষ্ঠল,
মৈত্রায়ণী,
তৈত্তিরীয়
শুক্লযজুর্বেদ
দুটি শাখা-
কাণ্ব ও মাধ‍্যন্দিন
দুটি শাখা-
শৌনকীয়
এবং পৈপ্পলাদ্
মন্ত্রের ধরণপদ‍্যাত্মকগীতাত্মগদ‍্যাত্মক
মিশ্রিত
মন্ত্র সংখ‍্যা১০৫৮০*১৮১০২১৮৪

১৯১৫
৬০০০
মন্ত্র বিভাগ
মন্ডল-১০
অনুবাক-৮৫
সূক্ত-১০১৭
ঋক্- ১০৪৭২*
আর্চিক- ২
অধ‍্যায়-২৭
সাম-১৮১০
কৃষ্ণযজুর্বেদ-
কান্ড-৭
প্রশ্ন/প্রপাঠক-৪৪
অনুবাক-৬৪৪
কন্ডিকা-২১৮৪
শুক্লযজুর্বেদ
অধ‍্যায়-৪০
অনুবাক-৩০৩
কণ্ডিকা-১৯১৫*
কান্ড-২০
প্রপাঠক-৩৮
অনুবাক-৯০
সূক্ত-৭৩১
মন্ত্র-৬০০০
নামান্তর
দশতয়ী
গানবেদ
উদগাত্রবেদ
কর্মবেদ
অধ্বর্যু
অথর্বাঙ্গিরসবেদ,
ব্রহ্মবেদ,
ক্ষাত্রবেদ
মুখ‍্য পুরোহিতহোতাউদগাতাঅধ্বর্যু
ব্রহ্মা
সহকারী পুরোহিতমৈত্রাবরুণ,
অচ্ছাবাক,
গ্রাবস্তুৎ
প্রস্তোতা,
প্রতিহর্তা,
সুবহ্মণ‍্য
প্রতিপ্রস্থাতা,
নেষ্টা,উন্নেতা
ব্রাহ্মণাচ্ছংসী,
অগ্নীধ্র,
পোতা
বৈদিক সাহিত্য

বৈদিক সাহিত্য কাকে বলে / কি / বলতে কী বোঝায় ?

বেদ’ সম্পর্কিত সকল প্রকার সাহিত্যকে বৈদিক সাহিত্য বলা হয়।

বৈদিক সাহিত্য কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কি কি ? বৈদিক সাহিত্যের শ্রেণীবিভাগ / ভাগ গুলো বর্ণনা করো ?

বৈদিক সাহিত্য মন্ত্র, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ্ – এই চারটি ভাগ পাই।

বৈদিক সাহিত্য MCQ দিতে চাইলে এখানে click করুন

GO TO HOME JOIN OUR FACEBOOK PAGE

Leave a Reply

%d bloggers like this: