বৈদিক সাহিত্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ আলোচনা

বৈদিক সাহিত্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ আলোচনা – বেদ সম্পর্কিত উক্তিবিশেষ বেদের কাল বিষয়বস্তু ,বেদের প্রকার , অথর্ববেদ ত্রয়ী অন্তর্ভূক্ত নয় , পাঠপ্রণালী , বৈদিক স্বর, বৈদিক ছন্দ , চার বেদের কতিপয় বিষয় আলোচিত হয়েছে। বৈদিক সাহিত্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ আলোচনা – বেদ সম্পর্কিত উক্তিবিশেষ বেদের কাল বিষয়বস্তু ,বেদের প্রকার , অথর্ববেদ ত্রয়ী অন্তর্ভূক্ত নয় , পাঠপ্রণালী , বৈদিক স্বর, বৈদিক ছন্দ , চার বেদের কতিপয় বিষয় আলোচিত হয়েছে।


বৈদিক সাহিত্য সূচনা :-

সংস্কৃত সাহিত্য অথবা ভারতীয় সাহিত্য আলোচনা করতে গেলে সর্বপ্রথমে আলোচনা করতে হয় ‘বৈদিক সাহিত্যের।

রামায়ণ’ রচনার পূর্ববর্তী কাল পর্যন্ত ‘বেদ’ সম্বন্ধিত সকলপ্রকার সাহিত্যকে বৈদিকসাহিত্য বলা হয়।

‘বেদ শব্দ বিদ্ ধাতুর সঙ্গে “অচ্ / ঘঞ্’ প্রত্যয় যোগে নিম্পন্ন। এর আক্ষরিক অর্থ জ্ঞান

বৈদিক সাহিত্য – বেদ সম্পর্কিত উক্তিবিশেষ

উক্তিঅবস্থান / বক্তা
বেদোঅখিলধর্মূলমমনুসংহিতা ; মনু
ইষ্টপ্রাপ্ত্‍যনিষ্টপরিহারয়োরলৌকিকমুপায়ং যো গ্রন্থবেদয়তি স বেদঃঐতরেয় ব্রাহ্মণভাষ্য ; সায়ণ
প্রত্যক্ষেণানুমিত্যা বা যস্তূপায়ো ন বিদ্যতে।
এনং বিদন্তি বেদেন তস্মাদ্ বেদস্য বেদতা।।

যাজ্ঞবল্ক্য
বেদো ধর্মমুলম,গৌতম
মন্ত্রব্রাহ্মণয়োর্বেদনামধয়েম্আপস্তম্ব
মন্ত্রব্রাহ্মণাত্মকশব্দরাশির্বেদঃঋগ্বেদ ভাষ্যভূমিকা ; সায়ণ
ন কশ্চিৎ বেদকর্তাস্তিপরাশরসংহিতা ; পরাশর
সামর্গ্যজুর্বেদাস্ত্রয়স্ত্রয়ী।অর্থশাস্ত্র ; কৌটিল্য
গীতিষু সামাখ্যাপূর্ব মীমাংসা ; জৈমিনি
শেষে যজুঃ শব্দঃপূর্ব মীমাংসা ; জৈমিনি
বেদ সম্পর্কিত উক্তিবিশেষ

বেদ অপৌরুষেয় অর্থাৎ বেদের কোনো রচয়িতা নেই। আসলে সেই সময় আমাদের মতো কলম ধরে কেউ একজন বেদ লেখেন নি ; তাই এরকম উক্তি।

অনেক ঋষি স্বতপস্যা, স্বজ্ঞান প্রভৃতির মাধ্যমে এই অতীন্দ্রিয় জ্ঞানের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং তা গুরু-শিষ্যপরম্পরায় রক্ষিত হয়েছিল। সুতরাং ঋষিগণ দৃষ্ট জ্ঞানমূলক মন্ত্রসমষ্টিই ‘বেদ।

ঋষিগণ মন্ত্রের দ্রষ্টা’, স্রষ্টা নন।


বেদের কাল নির্ণয়ে আজও বিভিন্ন মতান্তর বিদ্যমান।

তবে একটা কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হয় যে, কোন একটা নির্দিষ্ট সময়ে বেদ রচিত হয়নি ; কালক্রমে বহুদিন ধরে বেদের মন্ত্রগুলি পুষ্টতা লাভ করেছে।

বৈদিক সাহিত্য মতান্তরে বেদের কাল

মত
সময়কাল
ভিত্তি
ম্যাক্সমূলার
১২০০- ১০০০ খ্রী.পূ.
ভাষা ও সাহিত্য
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
১০০০ – ৯০০ খ্রী.পু,
ভাষা ও সাহিত্য
বালগঙ্গাধর তিলক
৪৫০০ খ্রী.পূ. (৪-৬ হাজার)
জ্যোতিষ
জ্যাকোবি
৪৫০০ খ্রী.পূ.

জ্যোতিষ
কামেশ্বর আইয়ার
৪৫০০ খ্রী.পূ.
জ্যোতিষ
ম্যাকডোনেল ১৩০০/ ১৫০০ খ্রী.পূ
ইতিহাস
বেদের কাল / বৈদিক সাহিত্য


বৈদিক সাহিত্য

বেদের বিভাগ অনুযায়ী বেদ মূলতঃ দুই ভাগে বিভক্ত – মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ।

আবার সূক্ষ্মভাবে বিচার করলে মন্ত্র, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ্ – এই চারটি ভাগ পাই।

অন্যদিকে বেদ মূল চারপ্রকার – ঋক, সাম, যজুঃ ও অথর্ব।

এগুলির পাঠক্রম শাখাভেদে বিবিধ। এদের মধ্যে ঋক্-সাম- যজুঃ ত্রয়ীর অন্তর্গত।

কেউ আবার অথর্ববেদকেই ত্রয়ী লক্ষণাক্রান্ত বলেছেন।

।।একনজরে বেদভূমিকা।। বৈদিক সাহিত্য

বিষয়- বেদ / বৈদিক সাহিত্য

বৈদিক সাহিত্যবিষয়বস্তু –


জ্ঞানার্থক বিদ’ ধাতুর উত্তর অচ প্রত্যয় যোগে বেদ শব্দ, নিম্পন্ন। “বেদ’ কথাটির অর্থ জ্ঞান। সেই অতীন্দ্রিয় পরমজ্ঞান যে শাস্ত্র থেকে লাভ করা যায় তাকেই বলা হয় বেদ।

বেদের প্রকার :


বেদ চার প্রকার :- (১) ঋক, (২) সাম , (৩) যজুঃ এবং (৪) অথর্ববেদ।

ত্রয়ী :-


বৈদিক মন্ত্রের তিনটিরূপ – পদ্যাত্মক মন্ত্র ঋক, গীতিময় মন্ত্র সাম এবং গদ্যাত্মক মন্ত্র যজুঃ। এই তিন শ্রেণির মন্ত্রই বেদের অন্তর্গত বলে বেদের আর এক নাম ত্রয়ী।

অথর্ববেদ ত্রয়ী অন্তর্ভূক্ত :-


বৈদিক মন্ত্রের তিনটিরূপ -পদ্যাত্মক মন্ত্র ঋক, গীতিময় মন্ত্র সাম এবং গদ্যাত্মক মন্ত্র যজুঃ। এই তিন শ্রেণির মন্ত্রই বেদের অন্তর্গত বলে বেদের আর এক নাম ত্রয়ী।

অথর্বন মন্ত্রের আলাদা কোন লক্ষণ নেই। এই শ্রেণির মন্ত্র গদ্যপদ্যগীত্যাত্মক মন্ত্রেরই লক্ষণাক্রান্ত। তাই অথর্ববেদকে ত্রয়ীর অন্তর্ভূক্ত না করার কোনো কারণ নেই।

অথর্ববেদ ত্রয়ী অন্তর্ভূক্ত নয় :-

ত্রয়ী বলতে ঋক , সাম ও যজুঃ – এই বেদত্রয়কে বোঝায়। পরবর্তীকালের সংযোজন বলে অথর্ববেদ ত্রয়ী থেকে ভিন্ন। আবার অনেকের মতে, ঋক, সাম ও যজুঃ যজ্ঞের সঙ্গে ত্রয়ী অন্তর্ভুক্ত সম্পর্কিত বলে এদের ত্রয়ী বলা হয়। যজ্ঞে অথর্ববেদের কোনো ভূমিকা নেই, তাই অথর্ববেদ ত্রয়ীর অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

পাঠপ্রণালী :-


(১) প্রকৃতি (সংহিতা, পদ, ক্রম) ও (২) বিকৃতি (জটা, মালা, শিখা, লেখা, ধ্বজ, দণ্ড, রথ, ঘন)।

ঋক :-


ছন্দোবদ্ধ পদ্যাত্মক মন্ত্রকে বলা হয় ঋক।

সাম :-


সাম শব্দের অর্থ গান। সুর সংযোগে ঋকমন্ত্র গীত হলেই তাকে সামমন্ত্র বলে। সায়ণাচার্যের মতে – “গীতিরূপা মন্ত্রাঃ সামানি।”

যজুঃ:-


ছন্দোবদ্ধ ঋক এবং গীতিময় সাম মন্ত্র ছাড়া অবশিষ্ট বৈদিক মন্ত্রকে বলা হয় যজুঃ। জৈমিনি বলেছেন – “শেষে যজুঃ শব্দঃ।

চার ঋত্বিক :-


ঋগ্বেদের ঋত্বিকের নাম হোতা, সামবেদের ঋত্বিকের নাম উদগাতা, যজুর্বেদের ঋত্বিকের নাম অধ্বরযু এবং অথর্ববেদের ঋত্বিকের নাম ব্রহ্মা।

বৈদিক স্বর :-


উদাত্ত(উচ্চৈরুদাত্তঃ), অনুদাত্ত(নীচৈরনুদাত্তঃ), স্বরিতঃ(সমাহার স্বরিতঃ)।

বৈদিক ছন্দ :-


সাত প্রকার – গায়ত্রী(২৪), উষ্ণিক(২৮), অনুষ্টুপ(৩২), বৃহতী(৩৭), পংক্তি(৪০), ত্রিষ্টুপ(৪৪) ও জগতী (৪৮)।

মন্ত্রের অঙ্গ:-


মন্ত্রের অঙ্গ তিন প্রকার – ১) ঋষি( যার কাছে মন্ত্রটি প্রকাশিত হয়), ২) ছন্দ(প্রকাশকারে দৃষ্টমন্ত্র যে ধরনের পদ‍্যকে আশ্রয় করে) এবং ৩) দেবতা (যাকে লক্ষ‍্য করে মন্ত্র উচ্চারিত হয়।)

চারবেদের কতিপয় বিষয়

বিষয়ঋগ্বেদসামবেদযজুর্বেদ:-
অথর্ববেদ:-
সংহিতাঋকসংহিতাসামসংহিতা১. কৃষ্ণযজুর্বেদ বা
তৈত্তিরীয় সংহিতা
২. শুক্লযজুর্বেদ বা
বাজসনেয়ী সংহিতা

অথর্বসংহিতা


বর্তমানে প্রাপ্ত শাখা
দুটি শাখা-

শাকল শাখা
(১০১৭ টি সূক্ত)
এবং

বাস্কল শাখা

(১০২৮ টি সূক্ত)
তিনটি শাখা-
রাণায়ণীয়
(১৮১০ টি সাম),

কৌথুমী এবং
জৈমিনীয়
কৃষ্ণযজুর্বেদ-
চারটি শাখা-
কাঠক, কপিষ্ঠল,
মৈত্রায়ণী,
তৈত্তিরীয়
শুক্লযজুর্বেদ
দুটি শাখা-
কাণ্ব ও মাধ‍্যন্দিন
দুটি শাখা-
শৌনকীয়
এবং পৈপ্পলাদ্
মন্ত্রের ধরণপদ‍্যাত্মকগীতাত্মগদ‍্যাত্মক
মিশ্রিত
মন্ত্র সংখ‍্যা১০৫৮০*১৮১০২১৮৪

১৯১৫
৬০০০
মন্ত্র বিভাগ
মন্ডল-১০
অনুবাক-৮৫
সূক্ত-১০১৭
ঋক্- ১০৪৭২*
আর্চিক- ২
অধ‍্যায়-২৭
সাম-১৮১০
কৃষ্ণযজুর্বেদ-
কান্ড-৭
প্রশ্ন/প্রপাঠক-৪৪
অনুবাক-৬৪৪
কন্ডিকা-২১৮৪
শুক্লযজুর্বেদ
অধ‍্যায়-৪০
অনুবাক-৩০৩
কণ্ডিকা-১৯১৫*
কান্ড-২০
প্রপাঠক-৩৮
অনুবাক-৯০
সূক্ত-৭৩১
মন্ত্র-৬০০০
নামান্তর
দশতয়ী
গানবেদ
উদগাত্রবেদ
কর্মবেদ
অধ্বর্যু
অথর্বাঙ্গিরসবেদ,
ব্রহ্মবেদ,
ক্ষাত্রবেদ
মুখ‍্য পুরোহিতহোতাউদগাতাঅধ্বর্যু
ব্রহ্মা
সহকারী পুরোহিতমৈত্রাবরুণ,
অচ্ছাবাক,
গ্রাবস্তুৎ
প্রস্তোতা,
প্রতিহর্তা,
সুবহ্মণ‍্য
প্রতিপ্রস্থাতা,
নেষ্টা,উন্নেতা
ব্রাহ্মণাচ্ছংসী,
অগ্নীধ্র,
পোতা
বৈদিক সাহিত্য

বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান। সেই অতিন্দ্রীয় পরম জ্ঞান যে শাস্ত্র থেকে লাভ করা যায়, তাই বেদ।

বৈদিক সাহিত্য MCQ দিতে চাইলে এখানে click করুন

GO TO HOME JOIN OUR FACEBOOK PAGE

Leave a Reply

%d bloggers like this: